যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের সংশোধনাগার বিভাগের কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা। শনিবার (৩ অক্টোবর) গভর্নর বিল লির কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার দণ্ডিত খুনি ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ৫০ বছর বয়সী পাইক। তার আইনজীবীরা আদালতে দেওয়া নথিতে জানিয়েছেন, তিনি অচেতন অবস্থায় আছেন এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে না পারায় তাকে ইনটিউবেট করে ভেন্টিলেটরের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছর টেনেসিতে এটি ছিল মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দ্বিতীয় ব্যর্থ চেষ্টা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গভর্নর বিল লি ২০২৬ সালের বাকি সময়ে অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা স্থগিত করেছেন।
গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা চলতি মাসেই দায়িত্ব ছাড়বেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ প্রচেষ্টার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে স্ট্রাডা বলেন, সংশোধনাগার বিভাগের কর্মকর্তারা নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করেছেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে স্বাধীন তদন্ত চলাকালে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই টেনেসির জনগণের স্বার্থে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত বলে তিনি মনে করেন।
পাইকের আইনজীবীদের অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তার চিকিৎসকেরা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন। তারা জানিয়েছিলেন, পাইকের শিরা সরু এবং তার ‘থ্রম্বোসাইটোসিস’ নামের রক্তজনিত সমস্যা রয়েছে। এ কারণে শিরাপথে প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় লাইন স্থাপন কঠিন হতে পারে। তবে সংশোধনাগার বিভাগের কর্মকর্তারা চিকিৎসকদের সেই সতর্কতা উপেক্ষা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় পাইককে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর।
পাইকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা বর্তমানে তার জীবন রক্ষার পাশাপাশি শরীরে প্রয়োগ করা প্রাণঘাতী ওষুধ পেন্টোবারবিটাল অপসারণের চেষ্টা করছেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক